
ইসরাইলের হামলা
ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাত বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুতর সংকটে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৩ জুন, ইসরাইল “অপারেশন রাইজিং লায়ন” নামে একটি বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা। এই অভিযানে ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃবৃন্দসহ অন্তত ৭৮ জন নিহত হয়েছেন এবং ৩২৯ জন আহত হয়েছেন ।
ইসরাইলের এই অভিযানে, ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। নাটাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে, যা ইসরাইলের হামলার প্রমাণ। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই অভিযান ইরানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করা পারমাণবিক কর্মসূচি মোকাবিলার উদ্দেশ্যে। অপারেশনটি পরিচালিত হয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও মোসাদের সমন্বয়ে ।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরান এই হামলাকে “যুদ্ধ ঘোষণা” হিসেবে অভিহিত করেছে এবং জাতিসংঘে প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রতিরোধ হিসেবে, ইরান প্রায় ১০০টি ড্রোন ইসরাইলের দিকে পাঠিয়েছে, যদিও অধিকাংশই প্রতিহত হয়েছে । ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, ইসরাইল “বিষাক্ত ও শয়তানি” কাজ করেছে এবং এর জন্য কঠিন মূল্য দিতে হবে ।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরাইলের এই হামলা “খুবই সম্ভব” ছিল এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে হবে। তিনি ইরানকে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানালেও, ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছেন ।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়েছে ৬% এরও বেশি, যা অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয় । ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে এই সংঘাতের পরিণতি কেবল তাদের জন্য নয়, বরং গোটা অঞ্চলের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি, যাতে আরও বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়।

https://www.profitableratecpm.com/kd16mwaa1?key=8e86e7fa8f1dbabd777c8775d769dfb9

